রিপোর্টার্স ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরান তাদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে সরিয়ে ফেলেছে—এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য তিনি দেখেননি।
গত রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে ব্যবহৃত হয় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের এক ডজনেরও বেশি ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে “ধ্বংস করে দেওয়া” হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে, ইরানের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বলা হচ্ছে, ইরান সম্ভবত হামলার আগে ফোর্ডো পারমাণবিক স্থাপনা থেকে তাদের ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ গোপন কোনো স্থানে সরিয়ে ফেলেছে।
তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, "আমি এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য দেখিনি যা বলছে যে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা কোথাও লুকানো হয়েছে।"
প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পও হেগসেথের বক্তব্যে সায় দিয়ে বলেন, “কিছুই সরানো হয়নি। যে গাড়ি ও ট্রাকগুলো দেখা গেছে, সেগুলো ছিল কংক্রিট ঢালাইয়ের কর্মীদের।” তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
স্যাটেলাইটে ‘অস্বাভাবিক কার্যক্রম’
বেসরকারি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সার টেকনোলজিসের ছবি অনুযায়ী, হামলার দুদিন আগে ফোর্ডো স্থাপনায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে। ফলে ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার আগেই অধিকাংশ ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
‘হামলার উদ্দেশ্য ছিল না ইউরেনিয়াম ধ্বংস’
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একটি প্রাথমিক রিপোর্ট ফাঁস হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরানের কর্মসূচিকে মাত্র কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে দিতে পেরেছে। তবে হেগসেথ এ মূল্যায়নকে “নিম্ন আত্মবিশ্বাসপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং তা পুনরায় গড়ে তুলতে তাদের “বছর লেগে যাবে”।
সিনেটর টম কটন সাংবাদিকদের বলেন, “এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল না ইউরেনিয়াম জব্দ করা বা ধ্বংস করা। তবে আমি নিশ্চিত, এটি ছিল একটি অসাধারণ সাফল্য।”
ডেমোক্রেট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, “সব ইউরেনিয়াম এমন জায়গায় ছিল না যেটা বাংকার-বাস্টার দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব। তাই কিছু ইউরেনিয়াম নিঃসন্দেহে রয়ে গেছে।”
ইরানের হুঁশিয়ারি, ট্রাম্পের প্রশংসা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি হামলার পর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে, তেল-মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে।
হেগসেথ এ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের “ট্রাম্পবিরোধী পক্ষপাতিত্ব” করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আপনাদের ডিএনএতেই আছে ট্রাম্পকে ব্যর্থ প্রমাণ করার বাসনা।”
ট্রাম্প এ সংবাদ সম্মেলনকে “সবচেয়ে পেশাদার এবং নিশ্চিতকর” বলে অভিহিত করে প্রশংসা করেন। হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কাইন হামলার টেকনিক্যাল দিক তুলে ধরেন এবং বলেন, তিনি রাজনৈতিক চাপে কোনো তথ্য গোপন করেননি।
সিনেটের পর প্রতিনিধি পরিষদকেও এই বিষয়ে ব্রিফ করার কথা রয়েছে। এ সপ্তাহেই ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাব সিনেটে তোলা হতে পারে, যদিও এর পাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস