আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :
সম্প্রতি দিল্লিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সামান্য বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজধানীর হাসপাতালগুলিকে শয্যা, অক্সিজেন, ওষুধ এবং ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ মৃদু প্রকৃতির।
দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ সিং জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শহরে ২৩ টি নতুন কোভিড কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। আক্রান্তরা দিল্লির বাসিন্দা নাকি তাদের ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত রোগীর স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, “আমরা ইতোমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এর জন্য আটজন সিনিয়র কর্মকর্তার একটি দল গঠন করেছে।”
শুধুমাত্র দিল্লি নয়, সম্প্রতি ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, হরিয়ানা, কেরালা, গুজরাট এবং কর্ণাটকেও কোভিড সংক্রমণের মৃদু ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২৫৭টি কেস নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে এই কেসগুলি বেশিরভাগ হালকা এবং অস্বাভাবিক তীব্রতা বা মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত নয়। এই সংক্রমণ বৃদ্ধি সিঙ্গাপুর এবং হংকং-এর মতো এশীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে কোভিড কেস বৃদ্ধির আবহে দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রন পরিবারের JN.1 ভ্যারিয়েন্ট এবং এর সম্পর্কিত বংশধররা এই সাম্প্রতিক সংক্রমণের কারণ। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, JN.1 ভ্যারিয়েন্টের বংশধর LF.7 এবং NB.1.8 দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, JN.1 ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ৩০টি মিউটেশন রয়েছে, যার মধ্যে LF.7 এবং NB.1.8 হল সম্প্রতি রিপোর্ট করা কেসগুলির মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ।
ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর, মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট এবং প্রশাসকদের একটি পরামর্শে বলা হয়েছে যে, ভেন্টিলেটর, বাইপ্যাপ, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কার্যকরী আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও, সমস্ত পজিটিভ কোভিড-১৯ নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিং এর জন্য লোক নায়ক হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি, দিল্লি রাজ্য স্বাস্থ্য ডেটা ম্যানেজমেন্ট পোর্টালে প্রতিদিনের সমস্ত প্যারামিটারের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।