বিশেষ প্রতিনিধি, Sanchoy Biswas।।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর সামরিক বাহিনীকে পাল্টা হামলার অনুমোদন দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান বলছে, ভারতকে এই হামলার “মূল্য দিতে হবে”।
এমন অবস্থায় ভারতের উত্তরাঞ্চলের কমপক্ষে ২১টি বিমানবন্দর আগামী ১০ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। বন্ধ রাখা বিমানবন্দরগুলো ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান ও গুজরাট রাজ্যের বলে জানা গেছে। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে সামরিক অভিযান শুরুর পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বন্ধ রাখা এসব বিমানবন্দরগুলো কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মির ও লেহ-এর পাশাপাশি পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান ও গুজরাটের মতো রাজ্যগুলোতে অবস্থিত। ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের বড় একটি অংশ বাতিল হয়েছে।
এছাড়া ভারত থেকে আন্তর্জাতিক কিছু ফ্লাইটও বাধাগ্রস্ত হয়েছে, কারণ পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে না পারায় অনেক ফ্লাইট ঘুরিয়ে দিতে হয়েছে।
ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা ১১টি বিমানবন্দর থেকে ১৬৫টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়া ৯টি বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট বাতিল করেছে। আর এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস অমৃতসর, গোয়ালিয়র, জম্মু, শ্রীনগর ও হিন্ডন থেকে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
পাশাপাশি আরেক বাজেট এয়ারলাইন্স স্পাইসজেট লেহ, শ্রীনগর, জম্মু, ধর্মশালা, কান্ডলা ও অমৃতসরের ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে আকাশ এয়ার শ্রীনগরের সব ফ্লাইট ৯ মে পর্যন্ত বাতিল করেছে।
বুধবার সকাল থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা গেছে, নয়া দিল্লির উত্তরাংশে বাণিজ্যিক কোনো ফ্লাইট চলছিল না, একমাত্র দেহরাদুন ছাড়া।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা। পরোক্ষভাবে পাকিস্তান এ হামলায় জড়িত, এমন অভিযোগ তুলে বুধবার দেশটির সঙ্গে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে ভারত। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় দেশটি। জবাবে সিমলা চুক্তি স্থগিত ও ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। স্থগিত করে দেওয়া হয় ভারতের সঙ্গে সবরকম বাণিজ্যও।
এরপর থেকে দুদেশের পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকিতে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করে পরিস্থিতি, রীতিমতো যুদ্ধের রূপ ধারণ করেছে যা এখন।
গত মঙ্গলবার (৬ মে) মধ্যরাতে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরের অন্তত ৯টি স্থানে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। এতে অন্তত ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করছে পাকিস্তান।
রিপোর্টার্স২৪/এসবি