বিশেষ প্রতিনিধি, Sanchoy Biswas।।
আশিস গুপ্ত :
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরে ইরানে মার্কিনি বোমা বর্ষণ ও যুদ্ধের প্রতিবাদে ব্যাপক গণবিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ার, বোস্টন এবং শিকাগোর রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা “Hands off Iran” এবং “No US-Israel war on Iran” স্লোগান লেখা ব্যানার বহন করে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের যুদ্ধনীতি এবং ইসরায়েলকে সমর্থনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে সংগঠিত হয়, যখন “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” এর আওতায় মার্কিন বাহিনী ইরানের ফরদো, ইসফাহান এবং নাটাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন, মার্কিন প্রশাসনের কাছে ইসরায়েলকে সমর্থন বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যেন আর অংশ না নেয় সে আহ্বান জানাচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের মতে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সূচনা করেছে ইসরায়েল নিজেই, একদিকে গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে এবং অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে। তাঁরা ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং মার্কিন সমর্থনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করছেন।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা “ইরানে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে” এবং “অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।” একইভাবে, ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্থানীয়, রাজ্য ও ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে যাতে শহরের বাসিন্দা, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনার পর সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে “বুলসআই স্ট্রাইক” চালিয়ে “মনুমেন্টাল” ক্ষতি সাধন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন সেনাদের “দুর্দান্ত সাহসিকতার” প্রশংসা করেন এবং ইরানকে “শান্তি আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে” সতর্ক করেন।বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানি পরমাণু স্থাপনাগুলিতে বড় ধ্বংসের ইঙ্গিত মিলেছে, তবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। রবিবার ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পর কোনো রেডিওএকটিভ দূষণের প্রমাণ মেলেনি।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “জায়নবাদী শত্রু” একটি “বড় ভুল ও অপরাধ করেছে” এবং তাদের “কঠোর ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া” ভোগ করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, এই হামলার জবাব “বেদনাদায়ক” এবং “পরিণতিমূলক” হবে।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ এখন আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। আর তার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের রাস্তায় নেমে পড়া কেবল যুদ্ধবিরোধী ঐতিহ্যই নয়, বরং এই সংকটের নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রাথমিক ধাপ। আগামী দিনগুলোতে এই বিক্ষোভ কতটা তীব্র আকার ধারণ করে এবং তা মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।