বিশেষ প্রতিনিধি, সায়েম উদ্দিন।।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং অপরজন মারা গেছেন সাপের দংশনে। সব ঘটনাই ঘটেছে গত মঙ্গলবার (১৩ মে) থেকে বুধবার (১৪ মে) সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে।
শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : সদর উপজেলার হাজীপাড়া এলাকায় মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ীর আব্দুল কাদের জিলানী (১৮)। তিনি ঠাকুরগাঁও পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে মেসে নিজের কক্ষে গলায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মেসমেটরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত নামিয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের চাচা আবু তাহের বলেন, “আমার ভাতিজা পড়ালেখা নিয়ে কিছুটা মানসিক চাপে ছিল। আমরা তার মৃত্যুতে মর্মাহত হলেও কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।”
পারিবারিক কলহে প্রাণ দিলেন গৃহবধূ: একই দিন গভীর রাতে আত্মহত্যা করেছেন আরেক নারী, আরজিনা আক্তার (২০)। তিনি ভূল্লী থানার কিসমত কেশুরবাড়ি মেদ্দাপাড়ার বাসিন্দা। স্বজনদের ভাষ্য মতে, রাতে স্বামী রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিক কলহ হয়। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আরজিনা নিজ শয়নঘরের বাঁশের সরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। রাত আড়াইটার দিকে স্বামী বিষয়টি টের পেয়ে মা, ভাই ও চাচাকে ডেকে তড়িঘড়ি করে যমুনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানকার নার্স তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভূল্লী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সাপে কেটে মৃত্যু: এদিকে, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাপে কেটে মারা যান জামাল হোসেন (৩৫)। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাড়োসা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় নায়েব আলীর ছেলে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, “সকালে সাপে কেটে জামাল হোসেনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও ৩০ মিনিট পর তিনি মারা যান।”
পুলিশ তিনটি মৃত্যুই অপমৃত্যু হিসেবে প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস